কিভাবে সহজে স্মার্টফোনের আসক্তি কমাবেন
স্মার্টফোন এখন আমাদের জিবনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে গিয়েছে। কাজ ,পড়াশুনা
,যোগাযোগ,বিনোদন সবকিছুতে আমরা স্মার্টফোন ব্যবহার করছি। কিন্তু আমরা প্রয়োজনের
বেশি ব্যবহার করছি ।
অযথা ভিডিও দেখা,ঘুম থেকে উঠেই ফোন দেখা, বার বার ফোন চেক করা এসব বাজে অভ্যাস
আমাদের জিবনে অনেক প্রভাব ফেলে। কিছু ভালো অভ্যাস তৈরি করতে পারলে এই
স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি কমানো সহজ হয়ে যাবে। চলুন দেখে নিই সেই সহজ
উপায়গুলো।
পোস্ট সূচিপত্রঃ স্মার্টফোনের প্রতি আসক্তি কমানোর সহজ উপায়
- স্মার্টফোনের আসক্তি কি?
- অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণ
- স্মার্টফোনের আসক্তি কেন কমাবেন
- আপনার স্ক্রিন টাইম আগে দেখুন
- কখন ফোন ব্যবহার করবেন নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন
- ঘুমানোর সময় ফোন দূরে রাখবেন
- অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন অফ রাখুন
- সকালে ঘুম থেকে উঠেই আগে ফোন দেখবেন না
- অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ রাখবেন না
- ফোন সাইলেন্ট করে রাখবেন
- খাবারের সময় ফোন ব্যবহার করবেন না
- পড়াশুনা বা কাজের সময় ফোন দূরে রাখুন
- সপ্তাহে একদিন ফোন মুক্ত সময় আপনি বাইরে ঘুরতে যাবেন
- ধীরে ধীরে আভ্যাস পরিবর্তন করুন
- স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর সহজ রুটিন
- শেষ কথা
স্মার্টফোনের আসক্তি কি?
অপ্রয়োজনে বার বার স্মার্টফোন ব্যবহারের ইচ্ছা হয় এবং ফোন ছাড়া ভালো লাগেনা তখন
সেটাকে ফোনের প্রতি আসক্তি বলা হয়। যেমন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, রিলস, গেম,এবং
বিভিন্ন অ্যাপে অকারণে দীর্ঘ সময় ব্যয় করার কারণে এই অভ্যাস তৈরি হয়। প্রয়োজন ও
সচেতনতার সাথে ফোন ব্যবহার করতে হবে।
অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহারের কারণ
অনেক সময় আমরা নিজেরাও বুঝিনা যে কেন এত বেশি ফোন ব্যবহার করছি। অনেক সময় বিরক্ত
লাগা, একাকিত্ববোধ, অবসর সময়, কোন নাটকের প্রতি আগ্রহ কিংবা বিনোদনের অভ্যাস
এগুলোর জন্য স্মার্টফোনের প্রতি নির্ভরতা বাড়ে। কোনো কাজ না থাকলেও বার বার ফোন
দেখছেন তাহলে নিজের অভ্যাসের প্রতি নজর রাখা জরুরি।
স্মার্টফোনের আসক্তি কেন কমাবেন
ফোন বেশি ব্যবহারের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কাজে পিছিয়ে পড়বেন ফলে পড়াশুনা বা কাজের
মনোযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। অনেকে রাত জেগে ফোন ব্যবহার করে এতে করে ঘুমের
ব্যাঘাত ঘটে। ফলে স্বাস্থের অনেক সমস্যা দেখা দেয়। তবে আপনাকে ফোন সম্পূর্ণ বাদ
দিতে হবেনা কিন্তু প্রয়োজন অনুযায়ী স্মার্টফোন ব্যবহার করবেন।
আপনার স্ক্রিন টাইম আগে দেখুন
স্মার্টফোনের আসক্তি কমানোর দারুণ ট্রিক হলো আপনি প্রতিদিন কতোক্ষণ ফোন ব্যবহার
করছেন তা জানা। সব স্মার্টফোনেই স্ক্রিন টাইম ফিচার থাকে। সেখানে দেখুন কোন
অ্যাপে সময় বেশি ব্যয় করছেন। যে অ্যাপে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সময় বেশি দিচ্ছেন
আগে সেই অ্যাপের ব্যবহার কমান।
কখন ফোন ব্যবহার করবেন নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন
সারাদিন যখন ইচ্ছা ফোন ব্যবহার না করে নির্দিষ্ট সময় বেছে নিন। যেমন আপনি সকালে
কিছু সময়, দুপুরে কিছু সময় এবং রাতে নির্দিষ্ট সময়ে ফোন ব্যবহার করবেন। মনে মনে
বলেন যে আমি প্রয়োজন ছাড়া ফোন হাতে নিবনা। এইভাবে কিছুদিন করবেন দেখবেন এটি আপনার
আভ্যাস হয়ে যাবে। কয়েকদিন খারাপ লাগলেও আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।
ঘুমানোর সময় ফোন দূরে রাখবেন
অনেকেই ঘুমাতে গিয়েও ফোন ব্যবহার করতে থাকেন। একটি ভিডিও দেখতে গিয়ে ঘন্টার পর
ঘন্টা ব্যয় হয়ে যায় বোঝাই যায়না। তাই ঘুমানোর সময় অবশ্যই ফোন দূরে রাখবেন।
প্রয়োজনে ঘুমাতে যাওয়ার সময় ফোনে আল্যার্ম দিয়ে রাখবেন যাতে নির্দিষ্ট সময় ঘুম
থেকে উঠতে পারেন।
অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশন অফ রাখুন
অনেক সময় বার বার নোটিফিকেশন আসলে আমরা ফোন হাতে নিই। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের
নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিতে পারেন। বিশেষ করে বিনোদনমূলক অ্যাপের অপ্রয়োজনীয়
নোটিফিকেশন বন্ধ করে দিলে বার বার ফোন দেখার আগ্রহ অনেকটাই কমে যাবে। এতে করে
ফোনের প্রতি আসক্তি অনেকটাই কমে যাবে।
সকালে ঘুম থেকে উঠেই আগে ফোন দেখবেন না
আমরা ঘুম থেকে উঠেই আগে ফোন হাতে নিই। কিন্ত দিনের শুরুতেই সোশ্যাল মিডিয়া বা
বিভিন্ন নোটিফিকেশনে না গিয়ে নিজেকে একটু সময় দিন। ঘুম থেকে উঠে পানি পান করুন,
মুক্ত বাতাসে একটু হাঁটাহাঁটি করুন এতে করে মাইন্ড ফ্রেশ হবে এবং কাজের প্রতি
মনোযোগ বেশি হবে। এমনকি সারাটাদিন ভালো কাটবে।
অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ রাখবেন না
ফোনে এমন অনেক অ্যাপ আছে যা আমাদের খুব প্রয়োজনীয় না। কিন্তু আবার মাঝে মাঝে অনেক
বেশি সময় ব্যয়করে ফেলি।যেমন আপনি অপ্রয়োজনীয় এ৪ক্টি নোটিফিকেশন চলে আসে তখন আমরা
চট করেই সেই অ্যাপের মধ্যে ঢুকে পড়ি। তাই যেই অ্যাপগুলো কোনো কাজে লাগেনা
সেই অ্যাপগুলো আনস্টল করে দিন। যেগুলো দরকার শুধু সেগুলো রাখার চেষ্টা করুন।
ফোন সাইলেন্ট করে রাখবেন
পড়াশুনা বা গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় ফোনের শব্দ মনোযোগ নষ্ট করে দেয়। তাই কাজের
সময় ফোন সাইলেন্ট করে রাখতে পারেন। এতে বার বার ফোন দেখার প্রবণতা কমে যাবে। ফলে
আপনার কাজের প্রতি মনোযোগ ঠিক থাকবে। আপনি কাজগুলো সুসম্পন্ন করতে পারবেন।
খাবারের সময় ফোন ব্যবহার করবেন না
খাওয়ার সময় ফোন দেখা অনেকেরই অভ্যাস। এই অভ্যাস এড়াতে খাবারের সময় ফোন অন্য
জায়গায় রেখে খাবার খেতে আসবেন। পরিবারের লোকজন থাকলে তাদের সাথে কথা বলুন এবং
খাবারের সময় ফোন মুক্ত থাকার চেষ্টা করুন। মনে রাখবেন ছোট পরিবর্তনও ধীরে ধীরে বড়
অভ্যাস তৈরি করতে পারে। খাবার সময় সকলের সাথে খেলে বা কথা বললে বন্ডিং ভালো হয়।
পড়াশুনা বা কাজের সময় ফোন দূরে রাখুন
পড়াশুনা বা কাজের সময় ফোন চোখের সামনে থাকলে বার বার দেখতে মন চাইবে। তখন ফোনটি
টেবিল থেকে দূরে রাখবেন। তাহলে পড়াশুনার কোনো ব্যাঘাত ঘটবেনা। দীর্ঘক্ষণ পড়াশুনা
বা কাজ করতে পারবেন। তবে প্রয়োজন হলে ফোন চেক করার জন্য কিছু সময় বিরতি নিতে
পারেন। এতে করে কাজের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে পারবেন।
অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url